ঢাকা , শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬ , ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টঙ্গীর ফুটপাতে মাসে ১৫ লাখ টাকার চাঁদাবাজি, নেপথ্যে ‘ক্যাসেট শামীম’

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৮-২২ ১৪:৩৯:৫২
টঙ্গীর ফুটপাতে মাসে ১৫ লাখ টাকার চাঁদাবাজি, নেপথ্যে ‘ক্যাসেট শামীম’ টঙ্গীর ফুটপাতে মাসে ১৫ লাখ টাকার চাঁদাবাজি, নেপথ্যে ‘ক্যাসেট শামীম’

নিজস্ব প্রতিবেদক

গাজীপুরের টঙ্গীতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ফুটপাত ও সড়ক দখল করে দোকান বসিয়ে প্রতি মাসে প্রায় ১৫ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে শামীম খান ওরফে ‘ক্যাসেট শামীম’ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

 

স্থানীয়দের দাবি, টঙ্গী পূর্ব থানা-পুলিশকে মোটা অঙ্কের মাসোহারা দিয়ে ম্যানেজ করে ফুটপাতে ভাসমান দোকান বসিয়ে এই চাঁদাবাজির হাট বসানো হয়েছে।

 

ক্যাসেট শামীম একসময় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডের আ.লীগ মনোনীত কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন সরকারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় হত্যা মামলা রয়েছে। গত ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর ভোল পাল্টে তিনি স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন এবং এই চাঁদাবাজি অব্যাহত রাখেন।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, টঙ্গী-আব্দুল্লাহপুর সংযোগ বেইলি ব্রিজ সংলগ্ন মহাসড়কের ফুটপাত দখল করে প্রায় ২৪০ থেকে ২৫০টি কাপড়ের দোকান, নার্সারি, কাঁচাবাজার ও জুতার দোকান গড়ে উঠেছে। এ ছাড়া রয়েছে মাছ ও শুঁটকিসহ বিভিন্ন ভাসমান দোকান।

 

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দোকানভেদে তাঁদের দৈনিক ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয়। শুধু বেইলি ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকেই প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার টাকা চাঁদা ওঠে, যা মাসে দাঁড়ায় প্রায় ১৫ লাখ টাকায়। ফুটপাত দখলের কারণে টঙ্গীবাজারের মতো ব্যস্ততম এলাকার প্রবেশমুখে প্রতিনিয়ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে রোববার সাপ্তাহিক হাটের দিন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক এবং তুরাগ নদের ওপর নির্মিত বেইলি ব্রিজ দিয়ে পথচারী ও মালামাল বহনকারী যানবাহন চলাচল চরম ব্যাহত হয়। স্থানীয় এটলাস হোন্ডা, বাটা সু কোম্পানি, টেলিফোন শিল্প সংস্থা (টেশিস) ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতারা প্রতিদিন চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।

 

চাঁদাবাজির বিষয়ে অভিযুক্ত শামীম খান ওরফে ক্যাসেট শামীম বলেন, বিএনপি নেতা ইসমাইল সিকদার বসু, মামুন পাঠান ও লিটু মিয়াসহ কয়েকজন কোটি টাকা খরচ করে টঙ্গীবাজার ইজারা নিয়েছেন। সিটি করপোরেশন সীমানা চিহ্নিত করে না দেওয়ায় ইজারার টাকা তুলতে তুরাগ তীরের পাশে অস্থায়ী কিছু দোকান বসানো হয়েছে। সেখানে প্রতিটি দোকান থেকে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে, এর বেশি নয়।

 

টঙ্গীবাজারের ইজারাদার ও বৃহত্তর টঙ্গী থানা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইসমাইল সিকদার বসু জানান, তারা প্রায় ৫ কোটি টাকায় সিটি করপোরেশন থেকে টঙ্গীবাজার ইজারা নিয়েছেন। সড়ক ও জনপথ বিভাগ যদি সড়ক মেরামতের কাজ শুরু করে, তবে এই দোকানগুলো সরিয়ে নেওয়া হবে।

 

তবে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (টঙ্গী জোন) আঞ্চলিক কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জহিরুল ইসলাম স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইজারার আওতায় মহাসড়কের ফুটপাত অন্তর্ভুক্ত নয়। ফুটপাত দখল করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে সড়ক ও জনপথের টঙ্গী উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন খান জানান, অবৈধ দোকান সরাতে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং শিগগিরই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।

 

পুলিশকে মাসোহারা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে টঙ্গী পূর্ব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ফুটপাত মুক্ত করতে নিয়মিত অভিযান চালানো হয়, কিন্তু উচ্ছেদের কিছুদিন পর ফের দোকান বসে যায়।


 



নিউজটি আপডেট করেছেন : News Room 3

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ